সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শেখ মামুনুর রশিদ (৩২) নামের এক সাংবাদিকের ওপর হামলা, মারধর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনের বিরুদ্ধে গত ৩ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বলরাম গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় সাংবাদিক শেখ মামুনুর রশিদের সঙ্গে অভিযুক্তদের অন্যতম মো. তুহিন মিয়ার ধান ব্যবসার সুবাদে পরিচয় ছিল। গত ৩ সেপ্টেম্বর তুহিন মিয়ার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী মোছা. নাইমা জান্নাত নিখোঁজ হলে মামুনুর রশিদের ওপর এর দায় চাপিয়ে অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ওই নারী রংপুর থেকে নিজ বাড়িতে ফিরে এলে মামুনুর রশিদ বিষয়টি থেকে নির্দোষ প্রমাণিত হন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মিথ্যা অভিযোগে হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে মামুনুর রশিদ ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিলে অভিযুক্তরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন বলে অভিযোগ।

এজাহারে আরও বলা হয়, এরই জেরে গত ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুন্দরগঞ্জের মনমথ শিববাড়ী শহীদ মিনার সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে অবস্থান করছিলেন মামুনুর রশিদ। এ সময় মো. রাকিব মিয়া (৩০), মো. সরফরাজ মিয়া (৩৮), মো. মনির মিয়া (৩০) ও মো. তুহিন মিয়া (৩৮)সহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা মামুনুর রশিদকে টেনেহিঁচড়ে দোকানের বাইরে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারেন। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও নীলাফোলা হয়।
এজাহারে সাংবাদিক মামুনুর রশিদ দাবি করেন, হামলার সময় রাকিব মিয়া তাঁর পকেটে থাকা ধান ব্যবসার নগদ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে নেন। একই সময় সরফরাজ মিয়া তাঁর হাত থেকে আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি জোরপূর্বক খুলে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরেন এবং শহীদ মিনারের দেয়ালে ধাক্কা দেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় নুরু মিয়া, নাসিম মিয়া, চন্দন রায় ও সবুজ মিয়াসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত সাংবাদিক শেখ মামুনুর রশিদ সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এরপর তিনি সুন্দরগঞ্জ থানায় গিয়ে লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply